ব্যয় বৃদ্ধি ও কম মুনাফা

সংকটে যুক্তরাজ্যের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত

যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্ম মৌসুমকে বিনোদন ও আতিথেয়তা খাতের জন্য ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।

যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্ম মৌসুমকে বিনোদন ও আতিথেয়তা খাতের জন্য ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এবার দেশটির হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাব ও ক্যাফেগুলো বেশ কঠিন সময় পার করছে। এ বিপত্তির অন্যতম কারণ হলো খরচ বৃদ্ধি, কর্মী সংকট ও কম মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ভ্রমণ ও বাড়ির বাইরে খাওয়াদাওয়ার জন্য ভালো আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। যুক্তরাজ্যে এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া ছিল ভ্রমণের অনুকূলে। কিন্তু বাকি সব বাস্তবতা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

নরফোকের উপকূলীয় এলাকা ব্র্যানকাস্টার স্টেইথের জনপ্রিয় পাবগুলোর একটি হোয়াইট হর্স। সাধারণ ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকরা এখানে সি-ফুড, ক্র্যাব, ফিশ অ্যান্ড চিপসের স্বাদ নিতে ভিড় করেন। এ পাবসহ আরো নয়টি হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকানা প্রতিষ্ঠান অ্যাংলিয়ান কান্ট্রি ইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস নাই বলেন, ‘ব্যবসার জন্য এ মৌসুম আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো বাইরে থেকে যতটা জমজমাট দেখায়, ভেতরে ততটাই চাপে রয়েছে খাতটি।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় সব খাতেই খরচ বেড়েছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, কর্মী নিয়োগে খরচ বেড়েছে, জাতীয় বেতন বৃদ্ধি ও জাতীয় বীমা অবদানের কারণে চাপ আরো বেড়েছে। এ খরচের পুরোটা গ্রাহকের ওপর চাপানো সম্ভব নয়।’

গত বছরের অক্টোবরে ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে সর্বনিম্ন মজুরি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ঘণ্টাপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১২ পাউন্ড ২১ পেনি। যা গত এপ্রিলে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বীমা নিয়োগকর্তাদের অবদানও বেড়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড রাজস্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ইউকে হসপিটালিটি বলছে, শুধু এ খাতেই অতিরিক্ত খরচ হবে ১০০ কোটি পাউন্ড। এতে চাকরি ছাঁটাই বা বিনিয়োগ কমানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

সংগঠনের প্রধান কেট নিকোলস বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি গত ৩০ বছরে আমি দেখিনি। এমনকি মহামারীর সময়ও এতটা খারাপ ছিল না। খরচ বাড়ছে, মানুষের ব্যয় করার সামর্থ্য কমছে। সব মিলিয়ে প্রান্তীয় মুনাফায় চাপ পড়ছে।’

বাজেট ঘোষণার পর থেকে ব্রিটিশ আতিথেয়তা খাতে এরই মধ্যে ৮৪ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মার্চ নাগাদ এ সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এরই মধ্যে অতিপরিচিত ইতালীয় রেস্তোরাঁ চেইন গুস্তো ও থাই চেইন বুসাবা বন্ধ হয়ে গেছে। গুস্তোর ১৩টি শাখার মধ্যে সাতটি এখন বন্ধ, এতে চাকরি হারিয়েছেন ২০০ কর্মী। বুসাবার সাতটি শাখা বিক্রি হয়ে গেছে। এ চেইনে ২৪০টি কর্মসংস্থান টিকে থাকলেও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যজুড়ে মৌসুমি কাজের সুযোগও কমে গেছে। আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম চাকরির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন খণ্ডকালীন চাকরির আশায় থাকা শিক্ষার্থীরা। ইউনিভার্সিটি অব লিডসে পড়ুয়া ১৯ বছর বয়সী জেরেমি নান জানান, ১০০টির মতো চাকরির আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকার চাইলে কিছু সহায়তা দিতে পারে। যেমন কভিডের সময় রেস্তোরাঁ খাতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ২০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

এদিকে হসপিটালিটি খাত চাঙ্গা করতে লাইসেন্সিং ও নিয়ম সহজ করার কথা বলছে লেবার সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের প্রস্তাব ভালো হলেও খরচ ও করের চাপে এখন নতুন ব্যবসা শুরু করা কঠিন।

আরও